ঢাকা,  শুক্রবার,  নভেম্বর ২৪, ২০১৭ | ১০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
For problem seeing Bangla click here
সদ্য খবর
English

জ্বালানি তেলে ভেজাল দিচ্ছে পদ্মা অয়েল!

রশিদ মামুন

সরকারী কোম্পানি পদ্মা অয়েলের বিরুদ্ধে জ্বালানি তেলে ভেজাল দেয়ার অভিযোগ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সাথে পদ্মা ওয়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পদ্মা অয়েলের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কমিটির সভাপতি জানতে চান প্রক্রিয়াকরণ কারখানা না থাকার পরও কেন পদ্মা অয়েলকে কনডেনসেট সরবরাহ করা হলো।
পেট্রোল ও অকটেনেই ভেজাল মেশানো হয়। ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় গ্যাস ক্ষেত্রের উপজাত কনডেনসেট। এই কনডেনসেটের লিটার প্রতি মূল্য ৪২ টাকা। অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হয় ৮৪ টাকায়, আর অকটেন লিটার প্রতি ৮৯ টাকা।
নিয়মানুযায়ী গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর কাছ থেকে কনডেনসেট কিনে তা ফ্রাকশনেশন করে আবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে বিক্রি করতে হয়। বিপিসি সরকারী কোম্পানিকে দিয়ে সারাদেশে তেল বিপণন করে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বিপিসি সরাসরি কনডেনসেট সংগ্রহ করে পেট্রোল এবং অকটেনে ভেজাল দিয়ে বিক্রি করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারী কোম্পানি পদ্মা অয়েলই জ্বালানি তেলে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করে। তাদের নিজেদের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্ট নেই তবুও কনডেনসেট কিনছে তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান,  জ্বালানি তেলে সারাদেশে ভেজাল দেয়ায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে প্রক্রিয়া না করে সরাসরি কোন গাড়ি কনডেনসেটে চললে  পরিবেশ দূষিত হয়।

বিপিসির জ্বালানি তেল বিক্রি বৃদ্ধির বদলে ২০১৪ সাল থেকে কমতে শুরু করে। এর পরের বছর বিপিসির জ্বালানি তেল বিক্রি আরও কমে গেলে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টের অনুমোদন নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী অবৈধ এ বাণিজ্য করছে।

বৈঠকে কনডেনসেটের নানা বাণিজ্যিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সদস্যরা। তবে জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন যারা কনডেনসেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কনডেনসেটের অপব্যবহার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬টি কোম্পানি কনডেনসেট ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়ম করেছে। কালোবাজারির মাধ্যমে পেট্রোল, অকটেনের কনডেনসেট মিশিয়ে বিক্রি করছে।

এখানে মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না

*

You can use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>