ঢাকা,  শুক্রবার,  জুন ২৪, ২০১৭ | ১১ আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
For problem seeing Bangla click here
সদ্য খবর
English

এপ্রিল-মে মাসে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি...

বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা

সঞ্চিতা সীতু

চৈত্র তার আসল রূপে এসেছে। বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। দুপুরের দিকে রাস্তায় বেরলেই তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস অবস্থা। গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ সাধারণ মানুষ। এপ্রিল-মে মাসে এই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বজ্রঝড়ের আশংকা করছেন আবহাওয়া সংস্থাগুলো।

গত সপ্তাহে এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলাসিয়াস। চলতি সপ্তাহে সে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে ঢাকায় গত সপ্তাহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি, এই সপ্তাহে বেড়ে হয়েছে ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি, ময়মনসিংহে ২৯ থেকে বেড়ে ৩৩ দশমিক ৪, রংপুরে ২৮ থেকে ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি, খুলনায় ৩১ থেকে বেড়ে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে।

চৈত্রের এই সময়েও কখনো কখনো ঝড়-বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া একেবারেই ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরদিন আবার প্রচণ্ড গরম। সন্ধ্যার পর আবহাওয়া আবার ঠাণ্ডা, ভোর পর্যন্ত হালকা ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটা বিকিরণজনিত ঠাণ্ডা। বঙ্গোপসাগর থেকে বাতাস আসছে না। আসছে উত্তর পশ্চিম কোণ থেকে। ঠাণ্ডা হলেও বাতাস কিন্তু শুষ্ক। অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণতার সবচেয়ে বড় কারণ বিশ্বজুড়ে বায়ুমন্ডলে কার্বন নিঃসরণ। তা যে শুধু জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার এবং বনভূমি কমে যাওয়া, গ্রিনহাউসের প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ১৯৭২ সালের মে মাসের শেষে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ১৯৯৫ সালের এপ্রিলে ৪৩ ডিগ্রি, ২০০৯ সালের এপ্রিলে ছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বশেষ গত বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিলাস। চলতি বছর এই তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এবার এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ যার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলাসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে ।অন্য এলাকায় ২টি মৃদু তাপপ্রবাহ হতে পারে যা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হতে পারে। এছাড়া এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি নিুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২ থেকে ৩ দিন বজ্রসহ মাঝারী বা তীব্র কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্য এলাকায় ৪ থেকে ৫ দিন হাল্কা বা মাঝারী কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে।

আন্তর্জাতিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দাতা সংস্থা আকু ওয়েদার জানায়, মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হবে। এরপর কিছুদিন তাপমাত্রা কম থাকবে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে আবার তাপমাত্রা বেড়ে ৩৭ ডিগ্রি সেলাসিয়াসে যাবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি বজ্রঝড় হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া সংস্থাটি। পুরো মে মাসে তাপমাত্রা থাকবে ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এরমধ্যে মাঝে মাঝে ঝড় ও বজ্রপাত হবে বলে জানায় তারা।

এখানে মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না

*

You can use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>