ঢাকা,  সোমবার,  অক্টোবর ২৩, ২০১৭ | ৮ কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
For problem seeing Bangla click here
সদ্য খবর
English

বিশেষ সাক্ষাৎকার: সংকটবিন্দু পেরোলে সুন্দরবনকে বাঁচানো কঠিন হবে

প্রখম আলো

ভারতীয় জ্বালানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সৌম্য দত্ত সম্প্রতি রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন। গুজরাটের মুন্দ্রা এলাকায় সুন্দরবনের তুলনায় ছোট একটি ম্যানগ্রোভ বন আছে। সেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। এতে সেখানকার বনের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে কী হতে পারে, সে নিয়েই তিনি কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক ওয়াসিফ

প্রথম আলো : বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে সুন্দরবনের কাছেই কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে যাচ্ছে। ভারতে আপনারা এ ধরনের তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কাজ করেছেন। আপনাদের অভিজ্ঞতাটা কী?

সৌম্য দত্ত :প্রথম কথা হচ্ছে, কয়লার বিজলিঘর চাই কি না। দ্বিতীয়ত, সুন্দরবনের কাছে এটা করা উচিত কি না। তৃতীয়ত, ভারতীয় কয়লা ভালো কি না। প্রথমে বলা হয়েছিল, কয়লার ছাই জমবে সাড়ে ১২ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি টন কয়লায় ১২০ কেজি ছাই হবে। ভারতের থার্মাল কোলের অ্যাশ–কন্টেন্ট হলো ৩৫-৪০ শতাংশ। তার মানে কয়লা আগের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি লাগবে। সুতরাং, বছরে ৪৭ লাখ টন কয়লায় কুলাবে না। আবার যে পরিমাণ ছাই জমা হওয়ার কথা ছিল, ভারতীয় কয়লা হলে তার তিন গুণ ছাই জমবে। সঙ্গে ওই পরিমাণ মার্কারি, ওই পরিমাণ হেভি মেটাল—সবকিছুই বেড়ে যাবে। ফলে আগের হিসাব ধরে যে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা হয়েছিল, তা-ও আর খাটবে না। পরিবেশের ওপর তেজস্ক্রিয় ও মার্কারির প্রভাবও সম্ভবত মূল্যায়ন হয়নি। এর যে পরিবেশগত প্রভাব ও সামাজিক ক্ষতি, তা অবিশ্বাস্য। আমরা মধ্যপ্রদেশের সিংরাউলিতে সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছি, ঘরে ঘরে মার্কারিতে আক্রান্ত রোগী, নিউরোলজিক্যাল রোগী, কিডনি ফেইলিউরের রোগী।

সুন্দরবনের অ্যাকুয়াটিক এলাকা সিংরাউলির চেয়ে অনেক বেশি নিবিড়। আমরা দেখেছি, পশুর নদের একদম ধার ঘেঁষে ছাইপুকুর বানানো হচ্ছে। এখান থেকে উপচে, ধুয়ে বা পাড় ভেঙে ছাই পুরোটা নদীতে যাবে। এটা মহাবিপর্যয় ঘটাবে।

প্রথম আলো : বাংলাদেশ সক্রিয় বদ্বীপ এলাকা। এই বদ্বীপ গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সুন্দরবনের নদীগুলো। তা ছাড়া এর বনভূমি, প্রাণবৈচিত্র্য, জলদেহ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?

সৌম্য দত্ত :মাত্রাটা দুভাবে। ম্যানগ্রোভ বা বাদাবন খুব স্পর্শকাতর বাস্তুসংস্থান। এর প্রাণবৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রামপাল কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র উচ্চহারে অ্যাসিডিক অক্সাইড নির্গত করবে। তা ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের মাটির অম্লতা মারাত্মক বাড়াবে। এর ফলে সমুদ্রের নিকটবর্তী নদীর পানির অম্লতাও বৃদ্ধি পাবে, যা পটেনশিয়াল অব হাইড্রোজেন বা পিএইচ ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বন  ধ্বংসের মাত্রা বাড়িয়ে তুলবে। পিএইচ কনটেন্ট, অক্সিজেন কনটেন্ট ও তাপমাত্রা হলো আসল।

জমিতে বা বনে বাঘ হলো প্রকৃতির নির্দেশক। বাঘ না থাকা মানে জীবনচক্রের তলার প্রাণীগুলোও ঝুঁকিতে থাকা। পানিতে বাঘের
অনুরূপ হলো মাছ। মাছের নিচে অনেক জীবন আছে, যার ওপর মাছ নির্ভর করে। ভারতে গুজরাট, তামিলনাড়ুতে ম্যানগ্রোভের পাশে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছিল। ওখানে মাছ ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এর মানে সমগ্র অ্যাকুয়াটিক জীবনচক্রের ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ‍সুন্দরবনে এই ক্ষতি আরও বেশি হবে। কারণ, এখানে অ্যাকুয়াটিক লাইফ আরও নিবিড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ।

প্রথম আলো : কিন্তু বলা হচ্ছে, ক্ষতিকর সব প্রভাব সামাল দেওয়া হবে।

সৌম্য দত্ত :টিপিং পয়েন্ট বা সংকটবিন্দু বলে একটা ব্যাপার আছে। এর পরে গেলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না। কানাডা-অস্ট্রেলিয়ার অনেক টাকা, অনেক ব্যবস্থাপনাগত জ্ঞান, অনেক প্রযুক্তি। তবু তারা কিছু করতে পারছে না। বাংলাদেশ বা ভারত কি ম্যাজিক জানে? সুন্দরবনের পরিস্থিতি টিপিং পয়েন্টের বাইরে চলে গেলে বাংলাদেশ-ভারত কারোরই সাধ্য থাকবে না তাকে বাঁচানোর।

প্রথম আলো : বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য উন্নয়ন আর জ্বালানির মধ্যকার মূল বিতর্কটা কী?

সৌম্য দত্ত :দেখুন, মূল বিতর্কটাকে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র কী ধরনের ‘উন্নয়ন’ পন্থা ও লক্ষ্য নিচ্ছে, অনেকাংশে এটা তার ওপর নির্ভরশীল। যদি উন্নয়নের লক্ষ্য হয় আট লেনের মহাসড়ক, বিশ্বমানের অবকাঠামো, বৃহৎ বিনোদন পার্ক, শপিং মল ইত্যাদি, তবে আসলেই অনেক বিদ্যুতের প্রয়োজন। আর যদি উন্নয়নের লক্ষ্য হয় অধিকাংশ জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা, যা দিয়ে বাসাবাড়ির বাতি জ্বালানো, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পক্ষে ভালো উৎপাদন করা, স্থানীয়ভাবে অসংখ্য কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং চিকিৎসা ও শিক্ষাসেবা প্রদান করা যাবে; তাহলে একই মানের উন্নয়ন অর্জন করতে অনেক কম পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে।

প্রতিটি সমাজের জন্যই বিদ্যুৎ দরকার, কিন্তু তার পরিমাণ নির্ভর করে উন্নয়ন লক্ষ্যের ওপর। শ্রীলঙ্কার দিকে তাকালেই পার্থক্যটি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তারা ভারতের চেয়েও অনেক উন্নত এইচডিআই (মানব উন্নয়ন সূচক) অর্জন করেছে ভারতের মাথাপিছু বিদ্যুৎ খরচের ৩ ভাগের ২ ভাগ মাত্র খরচ করেই। পৃথিবীতে এমন উদাহরণ অজস্র।

প্রথম আলো : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অতীতে যতটা জ্বালানিশক্তির দরকার হতো, সেই অনুপাতটা কি এখনো একই থাকছে?

সৌম্য দত্ত :৭০ দশকের গোড়ার কিছু অর্থনৈতিক তত্ত্বে সমীকরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে যে প্রতি হাজার জিডিপি গ্রোথের জন্য কত কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ দরকার। এ সমীকরণ করা হয়েছিল তখনকার দিনের নিবিড় ম্যানুফ্যাকচারিংকে মাথায় রেখে। তখনকার বোঝাপড়ায় অনেক বেশি এনার্জির চাহিদা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এখন সমপরিমাণ উৎপাদনে তিন ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ লাগে। তখনকার চেয়ে এখন ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক দক্ষ। কাজেই যে তত্ত্বের ভিত্তিতে আমাদের সরকারগুলো আগামী ২০-২৫ বছরের এনার্জি চাহিদা তৈরি করছে, সেটা ভুলের ওপর দাঁড়িয়ে। ভারতে ২০০৭ সালের ইন্টিগ্রেটেডে এনার্জি পলিসির ভিত্তিও ছিল এই হিসাব। কারণ, আমরা পঞ্চাশের দশকের ইউরোপ, আমেরিকা আর পরের দিকের চীনকে দেখে শিখেছি। এ দুটোই ছিল ম্যানুফ্যাকচারিং ইনটেনসিভ এবং খুব কম এফিশিয়েন্সির অর্থনীতি। এখন তারাও আর অত বিদ্যুৎ চাইছে না।

দুনিয়াটা আস্তে আস্তে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সেবা ও প্রাথমিক যে খাদ্য উৎপাদন; তার ওপর ভর করছে। ভারতের অর্থনীতি বিকশিত হয়েছে সার্ভিস সেক্টরের ওপর ভর করে। এ ধরনের দেশগুলো বুঝছে না যে সেকেন্ডারি ইকোনমিক প্রোডাকশন, যার জন্য বেশি এনার্জি লাগে, তার গুরুত্ব কমে আসছে। চীন হলো ফ্যাক্টরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড। সেই চীন এখন অর্থনৈতিক মন্থরতার দিকে যাচ্ছে। কারণ, এ পরিমাণ ম্যানুফ্যাকচারিং দুনিয়ার দরকার নেই। কাজেই আজকের দিনে নতুন করে হিসাব করার দরকার আছে। আজকের দিনে টেকসইপনা বড় ব্যাপার।

ভারতে বলা হয়েছিল, ২০৩২-এ ভারতে ৯ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে। এখন বলা হচ্ছে, তার ৪০ ভাগ কমে হলেও চলে যাবে। ধরে নেওয়া হয়েছিল, জিডিপি প্রবৃদ্ধি লাগাতারভাবে ৮-৯ শতাংশ চলবে। সেটা হবে না, দুনিয়ার কোথাও তা সম্ভব নয়। ওই পরিমাণ কাঁচামাল পৃথিবীতে নেই। ২০-৩০ বছর আগের চেয়ে এখন একই অর্থনৈতিক সুবিধা অনেক কম কাঁচামাল ও জ্বালানি দিয়ে পাওয়া সম্ভব। তার মানে অত জ্বালানি দরকার নেই, অত কয়লা দরকার নেই। এসবের জন্য যত পুঁজি দরকার হতো, তত আর দরকার নেই। অর্থনীতিবিদেরা এটা এখনো মানতে চাইছেন না।

প্রথম আলো : বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাযুগের অবসানের কথা আপনি লিখেছেন। এ বিষয়ে ভারত ও চীনের অভিজ্ঞতা কী বলে?

সৌম্য দত্ত :অবসান হয়নি, অবসানের শুরুটা হয়েছে। ভারতে ২০২৩ সালের পর থেকে নতুন যত বিজলিঘর আসবে, পুরোটাই নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে। ২০২২ সালের মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য এনার্জি দিয়ে করার অঙ্গীকার ভারতের আছে। সেটা হয়তো ২২-এ না পারলেও ২৫-২৬-এ পারবে। ভারতে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ আসে ১ লাখ ৮৮ হাজার মেগাওয়াট। এর খরচ বেশি কিন্তু গড় এফিশিয়েন্সি ৩০ শতাংশ। মাত্র ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ তৈরিতে যায়, বাকিটা নষ্ট হয়। তারপরও কয়লা থাকছে; কারণ, যে খনিটা একজন দুই হাজার কোটি টাকা লাগিয়ে কিনেছেন, তিনি কি তা ছেড়ে দেবেন? দেবেন না। পুঁজির ধর্মই তাই। তারপরও ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে কিছু কিছু জায়গায়। ভারতের যে ১৬টি আলট্রা মেগা পাওয়ার প্ল্যান্ট বানানোর কথা, বিট করে রিলায়েন্স কোম্পানি তার দুটি জিতেছিল; কিন্তু তারা একটি ছেড়ে দিয়েছে। কারণ, আজকের দিনে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ বানিয়ে লাভজনক হবে না। দুই-পাঁচ বছর পর আরও অলাভজনক হবে। দুই বছর ধরে চীনেও কয়লার বাস্তব ব্যবহার কমছে। তার জন্য কয়লার চাহিদা কমে যাচ্ছে।

ভারতে প্রতিবছর ৫০ কোটি টন কয়লা উৎপাদিত হতো। দুই বছর আগেও ভারত বলেছে, আগামী পাঁচ বছরে এটাকে দ্বিগুণ, আড়াই গুণ করব। এখন ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, আমাদের কয়লা আছে, তা লাগছে না বলে রপ্তানি করছি। কোল ইন্ডিয়ার সাড়ে সাত কোটি টন কয়লার মজুত পড়ে আছে। ওটা বিক্রি করতে হবে। তার জন্য বাংলাদেশ ও নেপালে বাজার খোঁজা হচ্ছে। দুই নম্বর, ভারতে মোটামুটি ৬৮ শতাংশ বিজলি আসে কয়লাচালিত বিজলিঘর থেকে। যত কয়লা উৎপাদিত হয়, তার ৬৪-৬৫ ভাগ যায় বিজলি বানাতে। কয়লা এখন বিদ্যুৎশিল্পে উদ্বৃত্ত, আগামী ১০ বছরেও তা-ই থাকবে। আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার পুরোটাও ব্যবহার করা যাচ্ছে না, কারণ তত চাহিদা নেই। তাই বিজলিঘর বন্ধ করে দিচ্ছি। মাত্র ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছি।

প্রথম আলো : বিদ্যুৎ তৈরির বিকল্প উপায় কি তাহলে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?

সৌম্য দত্ত :ভালো জায়গা পেলে এখন নতুন কয়লাকেন্দ্রের চেয়ে বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচ কম। ব্যবসায়ীরা যেখানে বেশি মুনাফা, সেখানেই যাবেন। তাই রিলায়েন্স, আদানিও সোলারে ঝুঁকছে। সম্প্রতি আদানি তামিলনাড়ুতে ৬৪৮ মেগাওয়াটের ভারতের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সোলার বাড়বে, কয়লা নামবে। নবায়নযোগ্য বা রিনিউঅ্যাবলে সুবিধা হলো, যা নিলেন নিলেন, বাকিটা প্রকৃতিতে থেকে গেল। রিনিউঅ্যাবল ব্যয়বহুল নয়। আজকের দিনে এর খরচ নতুন কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে যা হবে, তার সমান। বিহার বিদ্যুৎবঞ্চিত এলাকা ছিল। বায়োম্যাস দিয়ে তারা এখন চাহিদা পূরণ করছে। ভারতের একটা প্রাইভেট কোম্পানি ২৫ বছরের জন্য ৩ টাকা ১০ পয়সা ইউনিট বিদ্যুৎ দিতে চাইছে। গত ৮-১০ বছরে সোলার প্যানেলের খরচ খুব কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি এফিশিয়েন্সিও বাড়ছে।

প্রথম আলো : বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ তৈরির সুযোগ কম বলে অনেকে মনে করেন।

সৌম্য দত্ত :বাংলাদেশে কেন, এই সম্ভাবনা যেকোনো দেশেই অনেক বেশি। ভুলভাবে ভাবা হয় যে খুব জোরালো সূর্যালোক না হলে সোলার এনার্জি বুঝি পাই না। যেখানে মেঘ থাকে, আর্দ্রতা বেশি, সেখানে দেখা যায় ইনডিরেক্ট সোলারের উৎপাদনশীলতা অনেক বেশি। এটাও সোলার এনার্জি। আজকের দিনে অনেক এফিশিয়েন্ট প্রযুক্তি আছে হিট এনার্জি ও ইলেকট্রিসিটি করার জন্য। এটা ইনডিরেক্ট সোলার। বাংলাদেশে রিনিউঅ্যাবলের সম্ভাবনা ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের মতো না হলেও আমাদের নর্থইস্টের মতো। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুশক্তির সুযোগ বেশি। আর সুন্দরবনের কাছে ৫০ মিটারের ওপরে বাতাসের গতি অনেক বেশি। সেদিকে দেখলে সরাসরি ও পরোক্ষ সোলার, রিভারফ্লো এবং উইন্ড মেলালে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

প্রথম আলো :আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

সৌম্য দত্ত :আপনাকেও ধন্যবাদ।

এখানে মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না

*

You can use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>