সরকার ও এস আলমকে দায়ি করলো জাতীয় কমিটি
বাঁশখালীর গণ্ডামারায় হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকার ও এস আলম গ্রুপকে দায়ী করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে ও সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ গণ্ডামারায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে গণ্ডামারা খুনের ঘটনায় স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং আহত ব্যক্তিদের মানসম্মত চিকিৎসার ভার এস আলম গ্রুপকে নিতে হবে। এ ছাড়া তিন হাজার মানুষের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহ আলম, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির চট্টগ্রাম শাখার সদস্যসচিব প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, মানবাধিকারকর্মী সাদিয়া আরমান, শিল্পী অরূপ রাহী, মিজানুর রহমান, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু নিয়মকানুন মেনে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়। কিন্তু গণ্ডামারায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগে পরিবেশ সমীক্ষা করা হয়নি। নেওয়া হয়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। যে অবস্থায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, তা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতায় ভরা। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও সংকটময় করে তুলবে।
আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছেন, বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং গণ্ডামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তিনজনই জামায়াতের। এই তিনজন প্রতিবাদী মানুষের পক্ষে দাঁড়াননি। তাঁরা এস আলমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু নেতা লুটেরাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে বাঁশখালীর গণ্ডামারার প্রতিবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিবাদী মানুষের মধ্যে আওয়ামী, বিএনপি, জামায়াতসহ সর্বস্তরের সবাই আছেন।’
একজন গর্ভবতী নারীর চিত্র তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, ৪ এপ্রিল পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে কুলসুম নামের একজন গর্ভবতী নারীর বুক বিদ্ধ হয়। পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা সেদিন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে যেতে বাধা দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন বাধা না দিলে মৃতের ঘটনা আরও কম হতে পারত বলে জানান তিনি।
শহীদ মিনারে সমাবেশ: এদিকে বাঁশখালীর গণ্ডামারায় চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি চট্টগ্রাম শাখার আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এতে কমিটির চট্টগ্রাম শাখার সদস্যসচিব প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে আনু মুহাম্মদ, সিপিবির নেতা শাহ আলম, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
শহীদ মিনারের সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ভারত, চীন, রাশিয়া ও আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাবে। রাশিয়া সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। সুন্দরবনে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ভারতীয় কোম্পানিকে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়েছে। গণ্ডামারায় চীন যৌথভাবে বিনিয়োগে করছে।