আমদানি নির্ভরতা ভু-রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ

আইএমইডি’র সংশোধিত প্রতিবেদন

রফিকুল বাসার:

পরিকল্পনায় ঘাটতির কারণে ৪৪ ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পড়ে থাকছে। এতে উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকি বাড়ছে। যথাযথ পরিকল্পনা হলে বসিয়ে অর্থ দিতে হতো না। অদক্ষতার কারণে বিদ্যুৎখাতে প্রকল্প বাস্তবায়নেও দেরি হচ্ছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সম্প্রতি বিদ্যুৎ খাতভূক্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে এই তথ্য দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি নির্ভরতা বাড়া ভু-রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
কাজ শেষ হয়নি কিন্তু ঠিকাদারের টাকা শোধ করা; নির্দিষ্ট সময় পার হলেও প্রকল্পের কোনো কাজ না করাসহ বিদ্যুৎখাতের নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে সরকারি এই প্রতিবেদনে। একই সাথে করা হয়েছে বিভিন্ন সুপারিশ।
বর্তমানে এমন কোন প্রকল্প নেই যা নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়েছে। প্রায় প্রত্যেক প্রকল্পই ‘সময় ওভাররান’ (বাড়তি সময়) এবং ‘অর্থ ওভাররান’ (প্রক্কলনের চেয়ে বেশি অর্থ) সিনড্রমে আক্রান্ত। এখান থেকে বের হতে বিদ্যুৎখাতে অধিকতর সংস্কার ও উন্নয়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

* পরিকল্পনায় ঘাটতিতে অলস বিদ্যুৎ

* ৪৪% বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না

* বাস্তবায়নে ধীরগতিতে খরচ বেশি

* ব্যয় প্রক্কলন অবাস্তব

* কাজ শেষের আগে ঠিকাদারকে পাওনা শোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের বড় প্রকল্পগুলো সাধারণত টার্ন কি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এতে বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা বললেই চলে। ঠিকাদারের ইচ্ছা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা করে যারা বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন সংস্থায় যোগদান করেন তাদের সক্ষমতা কম কিনা অথবা তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা অর্জন করানো সম্ভব কিনা তা ভেবে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করা হয়েছে। নচেৎ বিদ্যুৎ বিভাগে পরনির্ভরতা কাটানো সম্ভব হবে না। এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎখাত গঠন করা দুরূহ হতে পারে।
ডিপিপি করার সময় ব্যয় প্রাক্কলনে অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবসম্মত সংস্থান করা হয় না। যা পরে বাস্তবিকভাবে ক্রয় পর্যায়ে এসে দেখা যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় সকল প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প অনুমোদনের পরে নিয়োগ করা হয়। কোন কোন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করতে প্রকল্প মেয়াদের অনেকটা সময় চলে যায়। পরে দায়িত্ব নেওয়ায় প্রকল্প বিষয়ে পরিচালক ঠিকভাবে অবগত হতে পারে না। এর প্রভাব প্রকল্পের উপর পড়ে।

অলস বিদ্যুৎ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতার মাত্র ৫৬ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এর কারণ হলো জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও কয়লা নির্ভরতা। এতে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অত্যাধিক বেশি। এই অতিরিক্ত মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় করতে হচ্ছে।
বৈশ্বিক মন্দা, করোনার ধকল ইত্যাদির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর চাপ রয়েছে। তার উপর এই ভর্তুকি নতুন আর্থিক সংকট সৃষ্টি করছে।
বিদ্যুতের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে। সে তুলনায় বিদ্যুতের প্রতিদিনের উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং দিতে হয়। যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তবে প্রকল্প নেওয়ার আগে যথাযথ যাচাই বাছাই করা হলে এমন হতো না। অর্থাৎ নির্মিত কেন্দ্রর জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রকল্প নেওয়া হলে বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে বিপুল ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হতো না।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় বিরূপ প্রভাব
বিদ্যুৎ খাতে নেয়া প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই নির্ধারিত সময় শেষ হয় না। এতে খরচ বাড়ে। এমআইইডি মনে করে সমন্বিতভাবে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিৎ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে আলাদা আলাদা কোম্পানি আছে। এই তিন ধরনের কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। আবার সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন প্রস্তুত কিন্তু উৎপাদন কেন্দ্র না হওয়াতে বিতরণ লাইন পড়ে আছে। এসব কারণে বিনিয়োগ করা অর্থের সর্বোচ্চ মুনাফা আদায় করা সম্ভব হয় না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৫০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন এবং চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রর কাজের গতির সাথে সঞ্চালন লাইন করা সম্ভব হয়নি বলে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প দপ্তরের অদক্ষতার কারণেও কাজের গতি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় দ্বিতীয় ব্লকের ভূমি উন্নয়ন সংরক্ষণ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের সকল কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে করার পরও নির্ধারিত সময় প্রকল্প শেষ হয়নি।
সিটি করপোরেশনগুলোর রাস্তায় সৌর প্যানেল স্থাপন প্রকল্প পাঁচ বছরে মাত্র ১২ শতাংশ হয়েছে। এমন আরও অনেক উদাহরণ তুলে ধরেছে আইএমইডি।
প্রকল্প দপ্তরের দক্ষতা ও পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের অভাবে এমন হচ্ছে বলে মন্তব্য তাদের।

প্রকল্প অগ্রগতি
বিদ্যুৎখাতের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে আইএমইডি। পর্যালোচনা করতে গিয়ে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন দপ্তরগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাতটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম ইতিমধ্যে ৭ থেকে ৯ বছর পার হয়েছে। প্রকল্পগুলো গড় আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি যথাক্রমে ৬৪ ও ৭৪ শতাংশ। যা আশানুরূপ নয় বলে মনে করে আইএমইডি। ১৭ শতাংশ প্রকল্পের মেয়াদ ইতিমধ্যে চার থেকে ছয় বছর পার হয়েছে। এক্ষেত্রে গড়ে আর্থিক অগ্রগতি ৫৭ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৬৭ শতাংশ যা প্রকল্প বাস্তবায়নে হতাশার বার্তা বহন করে। অন্যদিকে একটি প্রকল্প ১০ বছরের বেশি সময় অতিক্রম হওয়ার পরও আর্থিক ১৬ ও বাস্তবে ৩১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে প্রিপেইড মিটার দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালে। এখনো মাত্র ৩১ ভাগ কাজ হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুতেরও একই অবস্থা। দুটি প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি শতভাগ হলেও অন্য দুটি প্রকল্পের বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ পাঁচ বছর আগে নেয়াও হলেও হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ। আরইবি সৌর চালিত কৃষি সেচ প্রকল্প নিয়েছে ২০১৮ সালে। এই পর্যন্ত হয়েছে মাত্র ৩০ ভাগ। তবে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের নেটওয়ার্ক স্থাপন শেষ হয়েছে।
পিজিসিবি ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে আটটির বাস্তবায়ন সাত থেকে নয় বছর ধরে চলছে। প্রকল্পগুলোর গড় আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি যথাক্রমে ৪২ ও ৫১ শতাংশ। অন্য ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন চার থেকে ছয় বছর ধরে চলছে। এর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি যথাক্রমে ৪৮ ও ৫০ শতাংশ। যা খুবই হতাশা ব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছে আইএমইডি। সঞ্চালন লাইন শক্তিশালি করার প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৬ সালে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪১ ভাগ কাজ হয়েছে।
ডিপিডিসিতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারের বিল শোধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইউজিসির আর্থিক অগ্রগতির তুলনায় বাস্তব অগ্রগতি খুবই কম। ডিপিডিসির মত কাজ শেষ করার আগেই ঠিকাদারের বিল শোধ করার অভিযোগ করা হয়েছে।
ওজোপাডিকোর একটি প্রকল্পে পাঁচ বছরে কোন কাজ হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ডেসকো তিনটি প্রকল্প চার থেকে ছয় বছর ধরে বাস্তবায়ন করলেও এখনো আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি যথাক্রমে দুই ও পাঁচ শতাংশ। ডেসকো স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ও গুলশানে মাটির নিচে ক্যাবল স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ২০১৮ সালে। এখন পর্যন্ত হয়েছে মাত্র সাত ভাগ কাজ।
ওজোপাডিকোতে চলমান চারটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি চার থেকে ছয় বছর এবং অন্য দুটি সাত থেকে নয় বছর ধরে চলছে। দুটি ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। নওপাজকোর অবস্থাও তথৈবচ। নওপাজকোর রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও ২০২২ পর্যন্ত মাত্র ৩৩ শতাংশ অর্থ ছাড় হয়েছে; কাজ হয়েছে ৪০ শতাংশ।
নেসকোর নেওয়া চারটি প্রকল্পের মধ্যে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুটি প্রকল্প এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অন্য দুটি বাস্তবায়ন হচ্ছে ৪ থেকে ৬ বছর ধরে। আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি কোন মতেই আশানুরূপ নয় বলে জানানো হয়।
পাওয়ার সেলের পাঁচ বছরে বাস্তব ও আর্থিক অগ্রগতি অত্যন্ত শোচনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
এসপিসিএল এর পাঁচ বছরের বেশি পার হওয়ার পরও একটি প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই হতাশার। অন্যদিকে আর একটি প্রকল্প সাত বছরের বেশি সময়ে আর্থিক অগ্রগতি বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় খুবই কম। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছে আইএমইডি।
আরপিসিএল এর দুটি প্রকল্প তিন বছর পার হলেও কোন অগ্রগতি হয়নি।
নওপাজকো, স্রেডা, নেসকো, সিপিজিসিবিসহ অন্যান্য সংস্থা বা কোম্পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন আশানুরূপ নয় বলে জানানো হয়েছে।
২০২১-২২ অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতির হার সবচেয়ে বেশি। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর অগ্রগতি বেশি।
সামগ্রিকভাবে বাস্তবায়ন অগ্রগতি এগিয়ে নিতে সংস্থাগুলোর আরও বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের নিবিড় তদারকি একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করে আইএমইডি।

কিছু ভাল দিক
প্রতিবেদনে কিছু ভাল দিক উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো, বৈচিত্র্যময় জ্বালানির মিশ্রণ, সরকারি উদ্যোগে বেসরকারিখাতের নীতি ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা তৈরি এবং আমদানি-রপ্তানিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো ছিল গত কয়েক বছরের ভাল দিক।

কিছু দুর্বল দিক
জ্বালানির নিশ্চয়তা ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করাকে দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎখাতে প্রকল্প নেওয়ার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়নি, এটা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানি করা জ্বালানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর। যা মূল্যের উঠানামা এবং রাজনৈতিক কারণগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। এটা নিরাপত্তা এবং ক্রয় ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া আছে অবকাঠামগত সীমাবদ্ধতা।
উচ্চ সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষতি: বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাত উচ্চ সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যার ফলে আর্থিক ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো এখনো অপতুল। যা আর্থসামাজিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।

সুযোগ
প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের সুযোগ জ্বালানি মিশ্রণকে বৈচিত্র্যময় করতে পাওে বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিভিন্ন অবকাঠামতে বিনিয়োগ করে ট্রান্সমিশন লোকসান কমানো এবং পরিষেবার মান উন্নত করা যায়।
সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং বিনিয়োগ বান্ধব করার মাধ্যমে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
প্রযুক্তির প্রয়োগ করে জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যেতে পারে। অপচয় কমানো যেতে পারে। প্রযুক্তি বিদ্যুৎখাতে সামগ্রিক দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

হুমকি
বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা আমদানি করা জ্বালানির ক্রয় ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এই হুমকি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন অবকাঠামোকে ব্যাহত করতে পারে।
জ্বালানি অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের অর্থায়ন একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গ্রামীণ বিদ্যুতের উদ্যোগের জন্য।

রাজনৈতিক ও নীতি অনিশ্চয়তা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অনিশ্চিত নীতি কাঠামো বাংলাদেশের জ্বালানি প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বরাদ্দ পর্যালোচনা
গত কয়েক বছর বাজেটের বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎখাতে। গত পাঁচ বছর গড়ে বাজেটের পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

সুপারিশ
প্রতিবেদনে প্রাথমিক জ্বালানির বিষয় নিশ্চিত না করে প্রকল্প নেওয়া বন্ধ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্প চূড়ান্ত করার আগেই- কোন পদ্ধতিতে, কোন উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আউটপুট পাওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। বিদ্যুৎখাতের শাসন উন্নত করা প্রয়োজন। এর মধ্যে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর প্রশাসনের প্রচলনের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার দক্ষতা বাড়ানো এবং পরিষেবার মান উন্নত করতে হবে। গবেষণার পরিমাণ বাড়াতে হবে।
বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের আইনগত ক্ষমতা বাড়িয়ে এবং সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির জন্য আইনগত ভিত্তি প্রয়োজন বলেও জানানো হয়েছে।
বলা হয়েছে, টার্ন কি প্রকল্পের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের বিদ্যমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে; যাতে অন্য সংস্থার কাজে ব্যাঘাত না হয়। প্রকল্পের শুরুতেই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে। সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো যেতে পারে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যেতে পারে। স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি কমানো, কার্যকর প্রশাসনের প্রচলনের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং পরিষেবার মান উন্নত করা প্রয়োজন বলে মনে করে আইএমইডি।