আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ: ইউনিট প্রতি দর ২৫ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট ২০২৬):
আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করবে চীন। ২রা সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে বেইজিং এ ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে। ২০২৮ সালে এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকায় বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় চীন। আমিনবাজারে ল্যান্ডফিলের ময়লা আবর্জনা থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে চীনের কোম্পানি। ২০২৮ সালের আগস্ট সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ শুরু হবে।
ইউনিট প্রতি ২৫টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে দাম বেশি মনে হলেও সামগ্রিকভাবে এটি সহনশীল। তারা আমাদের বর্জ্যটা নষ্ট করে দেবে। তাছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমাবে।
মাতুয়াইলে একই রকম আর একটি বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চীনকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাংবাদিকদের বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্প বাংলাদেশে প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প হতে যাচ্ছে। ঢাকা শহরের সামগ্রিক উন্নয়নে এটি একটি মডেল প্রকল্প হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এই প্রকল্পের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই এটি উদ্বোধন করা হবে।
বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটে চীন কি ধরণের সহায়তা করতে পারে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, হ্যাঁ, আমরা এ বিষয়েও কাজ করছি। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সৌর শক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর শক্তির উৎপাদন ও বিকাশ ঘটানোর জন্য এটি সঠিক সময়। এই খাতে চীনের বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। শক্তি বা জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল সুযোগ আমি দেখতে পাচ্ছি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ যৌথ ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন অংশীদারত্ব তৈরি করব। এই কাঠামোর অধীনে আমরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আপনারা দেখেছেন যে চট্টগ্রামে চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া মোংলা বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছি। তিস্তা নদী পুনর্বাসন প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ এগোচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল এবং ফেনি নদীর তীরে হাসপাতাল নির্মাণের কাজও খুব দ্রুত এগিয়ে চলছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা এবং দুদেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছি।