জ্বালানি তেলের ভোগান্তি কমেনি: আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান মন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (মঙ্গলবার, ২৩শে মার্চ ২০২৬):
জ্বালানি তেলের ভোগান্তি কাটছেই না। পাম্পে এখনও লম্বা লাইন। তেল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শেষ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে বেশি করে তেল নিচ্ছেন অনেকে।
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই পরিস্থিতি দেখা গেছে।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে জানিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, গত বছরের তুলনায় ২৫ ভাগ বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে যান চলাচল কম হলেও জ্বালানি তেলের ভোগান্তি কাটেনি। ঈদের আনন্দের মধ্যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন। দুই তিন ঘন্টা লাইনে থাকতে হচ্ছে। অনেক পাম্প ঠিকমতো খোলা থাকছে না। ভোগান্তি কমানো উদ্যোগ নেওয়া দাবি ভোক্তাদের।
ডিপো থেকে চাহিদা মতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ ও আছে পাম্প কর্তৃপক্ষের।
ট্যাংক লরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ডিপো থেকে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স এজেন্ট এবং রাজশাহী বিভাগ পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন। পদ্মা মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির বগুড়া কার্যালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে তারা এই দাবি জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাঘাবাড়ি ডিপোসহ দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পসমূহের অনুকূলে যে পেট্রোল ও অকটেন দেওয়া হচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রে ট্যাংক লরির নির্ধারিত ক্যালিব্রেশন ও ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে পেট্রোল পাম্প মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সাধারণত একটি ট্যাংক লরির প্রতিটি চেম্বারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫০০ লিটার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ডিপো থেকে দুই হাজা বা তিন হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে পাম্প মালিকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে, পেট্রোল পাম্প মালিকরা এই পরিস্থিতিতে তেল উত্তোলনে অপারগতা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট তেল বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে এসব তেল কালোবাজারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।