জ্বালানি মজুদের মানসিকতা এখন বড় সমস্যা: সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (সোমবার, ৩০শে মার্চ ২০২৬):

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জ্বালানি মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, বাজারে ঘাটতির চেয়ে জ্বালানি মজুদের মানসিকতা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও গাল্ফ অঞ্চলের উত্তেজনা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। তিনি আরও জানান, ১৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯শে মার্চ পর্যন্ত ৪১ দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন। এত পরিমাণ বিক্রয়ের পরও দেশে ডিজেলের মজুদ আছে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।

মন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের বাজারে যেসব দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, তার মূল কারণ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্রয় এবং অবৈধ মজুদের প্রবণতা। চলতি বছরের মার্চ মাসে গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অকটেন বিক্রি হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ঢাকার তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদ গেট, শাহবাগ ও গুলশান সার্ভিস স্টেশনের নাম উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আশ্বাস দেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি এবং জনগণের স্বার্থে বিপুল ভর্তুকি বহন করছে।

সরকারের খরচ উপস্থাপন করে মন্ত্রী বলেন, ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় ১৯৮ টাকা। একইভাবে অকটেনের বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা, প্রকৃত ব্যয় ১৫০.৭২ টাকা। সরকারের লক্ষ্য মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের অস্থিরতা না দেখা। এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দেশের দুই মাসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

মন্ত্রী জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থাপন করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রয় বা অবৈধ মজুদ এড়াতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় তেল পাচারের তথ্য দাতাদের জন্য সরকার পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে বলেও জানান।

সরকার ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৫৩টি মামলা করেছে।