নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলতে বিদ্যুতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬):

আসন্ন নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলতে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিপপা)।

সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ করে বলা হয়, নির্বাচনের আগে পিডিবি কাল্পনিক চাহিদা তৈরি করে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান এবং আসন্ন নির্বাচিত সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

জরিমানা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে প্রয়োজনে আদালতে যাবে বলেও জানানো হয়।

‘বিদ্যুৎ খাতে বৈষম্যমূলক আচরণ, চুক্তি লঙ্ঘন ও বিনিয়োগ আস্থার সংকট’ শীর্ষক পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন বিপপার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন বিপপা সভাপতি কে এম রেজাউল হাসানাত।

বলা হয়, দেশীয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের পিডিবির কাছে নয় হাজার কোটি টাকা বকেয়া ছিল। আর অন্তর্বর্তী সরকার আসার পরে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা বেড়ে এখন ১৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা দাঁড়িয়েছে। কোম্পানি ভেদে আট থেকে ১০ মাসের বিল বকেয়া আছে। এই অর্থের অন্তত ৬০ শতাংশ না করলে আসন্ন রমজান ও গরমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপপা সভাপতি বলেন, বকেয়ার টাকা না পেলে জ্বালানি তেল আমদানি করা যাবে না। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও চালানো সম্ভব হবে না। অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য বিদ্যুৎ খাতের পরিস্থিতি সুন্দরভাবে রেখে যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন মালিকদের জন্য জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে চাপে ফেলবে।

ইমরান করিম বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। বিদেশি কোম্পানিদের যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা দেশীয় কোম্পানিগুলোকে দেয়া হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনগত অধিকার রাখে। চুক্তির ১৩.২(জ) ধারা অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ গ্রহণের অধিকারও স্থগিত হতে পারে। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো কখনোই পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেনি। বিপুল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যাংক থেকে ধার নিয়ে সাধ্যমতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

অভিযোগ করে বলেন, বকেয়াজনিত আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো যখন উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে, তখন জাতীয় লোড বণ্টন কেন্দ্রের মাধ্যমে বাস্তব চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদা দেখিয়ে ক্ষতিপূরণমূলক জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। অপর্যাপ্ত সরবরাহ দেখিয়ে এই জরিমানা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কাগজে-কলমে বিপিডিবির বকেয়া কম দেখানো যায়। বর্তমানে কোনো কোনো কোম্পানির এই জরিমানার অর্থ বকেয়া বিল থেকে কর্তন করা হয়েছে এবং অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্তনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এই তথাকথিত জরিমানার মূল কারণ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের বিল পরিশোধে ব্যর্থতা, যার দায় অন্যায়ভাবে তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

এই বকেয়া সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে আবেদন করা হলে প্রক্রিয়াগত কারণ দেখিয়ে তা খারিজ করা হয়। পরে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।