১০০ দিনে সিস্টেম লস ৬ দশমিক ২৫ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ( বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬):
জ্বালানি খাতের আগামী ১০০ দিন ও ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে নতুন সরকার। পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের কথা তুলে ধরা হয়।
বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বই প্রকাশ করে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
১০০ দিনে পদ্ধতিগত লোকসান বা সিস্টেম লস ৬ দশমিক ২৫ শতাংশে কমিয়ে আনা, যা পাঁচ বছরে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা এবং আবাসিক সংযোগে স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে প্রণীত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা সংবলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশিত বইয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া এবং সেই লক্ষ্যে একটি ‘সমন্বিত রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছে।
অনশোর ও অফশোর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ এবং ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করার কথাও রয়েছে সেখানে।
২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৬’ প্রণয়ন, গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী ও এলপিজি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া নাফথা (খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস বা কয়লা থেকে প্রাপ্ত একটি অত্যন্ত দাহ্য, উদ্বায়ী তরল হাইড্রোকার্বন মিশ্রণ, যা মূলত পেট্রোলিয়াম শোধনাগারের একটি উপজাত) উৎপাদন ও বিপণন নীতিমালা, বিটুমিন উৎপাদন ও পরিবহন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে পেট্রোবাংলা ও বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর জন্য পৃথক বিজনেস প্ল্যান প্রণয়ন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের কথা রয়েছে ।
জ্বালানি বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আধুনিকায়নে ইএমআরডি পোর্টাল ও ইএমআরডি ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্সিং কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে ‘এক্সপ্লোসিভ ডিপার্টমেন্ট লাইসেন্সিং অটোমেশন সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
এ খাতে ‘স্বচ্ছতা ও উপস্থিতি’ নিশ্চিত করতে ‘ট্রুপ্রেজেন্স’ অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির আওতায় ধাপে ধাপে লাখো প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় টার্মিনাল স্থাপন, চ্যানেল ড্রেজিং এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের কথাও পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ।
সেখানে বলা হয়েছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর ও দক্ষিণ অংশ উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উন্নয়নের জন্য কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুমোদনের উদ্যোগ রয়েছে। এছাড়া নদী ও সমুদ্রসৈকত এলাকায় হেভি মিনারেলসহ অন্যান্য খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য পৃথক প্রকল্প অনুমোদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কয়লা বেড মিথেন, ভূগর্ভস্থ কয়লা গ্যাসিফিকেশন এবং সবুজ হাইড্রোজেনের মত বিকল্প জ্বালানির সম্ভাব্যতা যাচাই ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আঞ্চলিক ও আন্তঃদেশীয় গ্যাস পাইপলাইন এবং জ্বালানি সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জ্বালানি বিভাগ বলছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটে (বিপিআই) নতুন ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে ।
মন্ত্রণালয় বলছে, ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় প্রাথমিক প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কার শুরু করা হবে, আর পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় বড় অবকাঠামো প্রকল্প ও নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।