আমদানি খরচের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে জ্বালানি

দেশে যত পণ্য আমদানি হচ্ছে তারমধ্যে খরচের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে জ্বালানি।
দেশে বিলিয়ন ডলারের আমদানি করা পণ্যের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। আমদানি পণ্যের তালিকা অনেক থাকলেও অর্থের পরিমানে তা ছিল কম। কিন্তু এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। কর্মসংস্থান বেড়েছে। কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে। চাহিদায় পরিবর্তন হয়েছে। আর তাই আমদানিও বেড়েছে। এমন কী খেলার সামগ্রিও বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আমদানি করা লাগছে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে জ্বালানির বিকল্প নেই। জ্বালানির ব্যবহার যত বাড়বে, বুঝতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ততবেশি হচ্ছে।
মহামারী করোনার মধ্যেও মোট আমদানি বেড়েছে। বেড়েছে জ্বালানি তেলের আমদানিও। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৩৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের তেল আমদানি করা হয়েছিল। আর পরের বছর আমদানি করা হয় ৮৯৮ কোটি ৫১ লাখ ডলারের জ্বালানি পণ্য। চলতি বছরেই জ্বালানি পণ্য আমদানি হাজার কোটি ডলার ছাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা। আর তখন মূলধনী পণ্যের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে আমদানি করতে হবে জ্বালানি।
এখন পেট্রোল আমদানি করা লাগে না। বরং রপ্তানি হয়। কিন্তু ডিজেল, ফার্নেস ওয়েল আমদানি করতে হয়। আমদানি করতে হয় গ্যাস। গ্যাস দুইভাবে আমদানি হয়। এলএনজি ও এলপিজি আকারে। এলএনজি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে জাতীয় সঞ্চালন পাইপে দেয়া হয়। আর এলপিজি বোতলে করে সরবরাহ হচ্ছে। এলপিজি দিয়ে রান্না ছাড়াও গাড়ি চলছে। চলছে ছোট ছোট শিল্পকারখানা। এই দুইয়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এতে আমদানি জ্বালানি খরচ বাড়ছে। আর তাতে যোগ হচ্ছে কয়লা। কয়দিন পরে কয়লা, এলএনজি, এলপিজি তিন পণ্যের আমদানিই বাড়বে। আমদানি করা হচ্ছে বিদ্যুৎও।
একদিকে চাহিদা বাড়ছে অন্যদিকে দেশের জ্বালানি কমছে। দেশের মজুদ গ্যাস ফুরিয়ে আসছে। এই মূহুর্তে জ্বালানি আমদানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। দেশের গ্যাস চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। দেশের গ্যাস না থাকার কারণে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই চলে যাচ্ছে আমদানি নির্ভরতায়। আমদানি করা এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে। আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা আমদানি আরও বাড়বে। তখন মূলধনী পণ্যের চেয়ে জ্বালানি আমদানি বেশিই হবে।
প্রমাণিত ও সম্ভাব্য গ্যাসের যে মজুদ তাও যথেষ্ট নয়। সমুদ্রে গ্যাস পাওয়া গেলে, যদি বড় আকারে গ্যাস পাওয়া যায়, তবেই কিছুটা মিটবে। তবে সে প্রক্রিয়া শেষ হতে বহুবাকী। এখনও অনুসন্ধানই করা হয়নি। অনুসন্ধানের দরপ্রস্তাব আহ্বান প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ। সীমানা নির্ধারণের এতদিনেও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়া যায়নি। যদি সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান এখনই শুরু হয় আর বড় মজুদ পাওয়া যায় তবুও তা ব্যবহার করতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত বছর লেগে যাবে। আর একটা বিকল্প আছে উত্তরাঞ্চলের খনির কয়লা ব্যবহার। সেটাও ফসলি জমি নষ্ট করে তোলাটা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান নয়, আমাদের মত ঘনবসতি ও উর্বর জমির কারণে।
দিন দিন যেহেতু আমদানি বাড়ছে তাই দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে এই কাজ করতে হবে। অপচয় কমাতে হবে।

নতুন গ্যাস আবিস্কার
এটা সত্যিই আশার কথা নতুন গ্যাস আবিস্কার করেছে বাপেক্স। বাপেক্সকে আরও শক্তিশালি করতে নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিস্কারের কাজ দিতে হবে। স্থলভাবে বিদেশি কোম্পানিকে অকারণে আনা যাবে না। তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। পৃথিবীতে এমন যত কোম্পানি আছে সকলের সাফল্য ব্যর্থতা দুটোই আছে। বাপেক্সও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং বাপেক্সের সাফল্যের ভাগ বেশি। দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে বাপেক্সকে দিয়ে বেশি বেশি কাজ করানোর বিপল্প নেই।
সিলেটের জকিগঞ্জে যে গ্যাস আবিষ্কার হয়েছে তবে তা পরিমানে খুবই কম। গ্যাস ক্ষেত্র ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে এটা উত্তোলনযোগ্য কিনা তা বিবেচনা করা হয়নি। যে গ্যাস পাওয়া যাবে আর গ্যাস তুলে ব্যবহার করতে যে খরচ হবে এই দুইয়ের হিসাব করে, মূল্যায়ন করা জরুরি।