ফিরে দেখা ২০২১: বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত

বিশেষ প্রতিনিধি:
বরাবরের মত বিদ্যুতে সাফল্য থাকলেও জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সমালোচনার মধ্যে পার হল গেল বছর।
প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যপুরণ হলেও বছরের শেষে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণের সমালোচনার মুখে দাঁড়াতে হয়েছে জ্বালানি খাতকে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়তি থাকায় আমদানি নিয়ে ছিল সংকট।
নভেম্বর মাসে হঠাৎ করেই এক সাথে লিটার প্রতি ১৫ টাকা করে বাড়ানো হয় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম। তাতে বাড়ে বাস ভাড়া। বাড়ে জীবন যাপনের অন্য খরচও। রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়ানো হয়। যদিও এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে। তবুও সেই বাড়তি দাম এখনও আছে। কমানোর কোন উদ্যোগ নেই।
রান্নার গ্যাস এলপিজির দাম নিয়েও ছিল আলোচনা। দেশে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাম নির্ধারণ করে দেয় এলপিজির। প্রত্যেক মাসে সৌদি আরামকোর দামের সাথে সমন্বয় করে এই দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ আমদানি দামের ওপর নির্ভর করে প্রত্যেক মাসে এলপিজি দাম ঠিক করা হচ্ছে। যদিও বাজারে তার প্রতিফলন কম। বিইআরসি নির্ধারণ করা দামে কখনই ভোক্তারা কিনতে পারেননি।
দামের সাথে আলোচনায় ছিল এলপিজি থেকে দুর্ঘটনা। একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে পাইপের গ্যাস থেকেও। গ্যাসের দুর্ঘটনা এখন দেশের আতঙ্ক। এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার কিম্বা উদ্যোক্তা কারোরই কোন উদ্যোগ ছিল না। এখনও নেই।
২০২১ সালে বাংলাদেশের জনগণের প্রায় শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি ধারণ করেছে শতভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বড় খবর এটা।
শতভাগ বিদ্যুতায়ন হলেও এখনও বেশি দামের ভাড়ায় আনা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে আসা যায়নি। বরং কয়েকটার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে ভোক্তাকে বেশি দামেই নিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রর নির্মাণ শেষ হলেও সঞ্চালন লাইনের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। বিদ্যুৎ না নিতে পারার কারণে মাসে মাসে ১৩০ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু টাকা দিতে হচ্ছে। এই সমন্বয়হীনতার দায় বহন করছে সাধারণ ভোক্তারা।
জ্বালানি সংকট থাকলেও দেশীয় গ্যাস ব্যবহারের উদ্যোগ ছিল কম। আমদানিতেই ছিল ঝোঁক। জ্বালানির অধিকাংশই এখন আমদানি নির্ভর। দেশীয় অনুসন্ধানে তেমন নজির ছিল না। অগভীর সাগরে একটা কূপ খনন শুরু হলেও গভীর সাগরের জন্য কিছুই হয়নি। সাগরের মত স্থলভাগেও একই অবস্থা। প্রয়োজনীয় গ্যাস অনুসন্ধান হয়নি স্থলভাগেও। স্বাধীনতার পর মাত্র ৪০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। এরমধ্যে গত ১১ বছরে ১৯টি অনুসন্ধান কূপ খনন করেছে। গভীর সমুদ্র ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অনুসন্ধানের কোন কার্যক্রমই নেয়া হয়নি।