যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি: বাতিল নয় অসম কিনা খতিয়ে দেখা হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (মঙ্গলবার, ৫ই মে ২০২৬):
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা হবে না। চুক্তিতে অসম কোনো কিছু থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল তিন দিনের বাংলাদেশ সফর করছেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রতিনিধি দল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পরিবেশ মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু’র সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান আছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকে। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩০১ ধারা অনুযায়ী একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে। বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো বলে প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন। আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত—তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এসম উপস্থিত ছিলেন।
পরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে প্রতিনিধি দল। বাণিজ্যি চুক্তি যেন ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তি বিষয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। তবে পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে চুক্তির বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেটা যেন ভালো ভাবে বাস্তবায়ন হয় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অসম কিছু আছে কিনা তা সরকার খতিয়ে দেখছে।
যদি চুক্তিতে অসম কিছু থাকে তা স্ব স্ব মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
মার্কিন দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী। বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে বলে জানানো হয়।