সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ: বুধবার জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন

রফিকুল  বাসার:
সরকারি চাকরিজীদের জন্য সুখবর আসছে। বাড়তে যাচ্ছে বেতন। দশবছর পর নতুন বেতন কাঠামো পেতে যাচ্ছে তারা।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে। বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা। এতে সরকারি কর্মজীবীরা খুশি হবেন জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ডক্টর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো সুপারিশ করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মজীবীদের বেতন সবশেষ বেড়েছে ২০১৫ সালে। সেবছর সব স্কেলের বেতন ১০১ শতাংশ বাড়িয়ে সর্বনিম্ন মূল বেতন করা হয়েছিলো ৮ হাজার ২শ’৫০ টাকা। আর সর্বোচ্চ মূল বেতন করা হয় ৭৮ হাজার টাকা।

দশবছর পর বেতন বাড়ানো প্রয়োজন বিবেচনায় গতবছর সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন সবদিক বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

পিতা-মাতাসহ ছয় জনের একটি পরিবারের জীবন-যাত্রার ব্যয়; দুই সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়; দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারের সম্পদ পরিস্থিতি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সম্পদের প্রয়োনীয়তা; সংশ্লিষ্ঠ সংস্থা বা প্রতিষ্টানের আয় ব্যায়ের অবস্থা; দারিদ্র্য নিরসনে প্রয়োজনীয় সম্পদ যোগান দেওয়া এবংক্রমান্বয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনের উপায়; জনপ্রশাসনে দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং কর্মজীবিদের দক্ষতা ও কর্মোদ্যোম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে।
এই প্রতিবেদন আবার যাচাই করার জন্য অর্থ সচিবকে প্রধান করে একডিট কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। পরে সরকারে সমর্থ অনুযায়ি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা ডক্টর সালেহউদ্দিন আহমেদ এনার্জি বাংলাকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা খুশি হবেন এমন সুপারিশ থাকবে প্রতিবেদনে।
মূল্যস্ফীতি এবং বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা।

কত বাড়তে পারে:
বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, এটা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ থাকছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। নতুন বেতনকাঠামো আংশিক কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ আগেই নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বেতনকাঠামো পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন করতে গেলে বাড়তি ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে এগুলো আসলেই কত হবে তা নিদির্ষ্ট করে জানতে আর একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

দেশে বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। অন্তর্বর্তী সরকার এই চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, এটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
এটা সরকারি কর্মজীবিদের খুশির খবর হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ সরকারি বেতন বাড়লে বা নতুন বেতন কাঠামো গোষণা হলে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতি হয়। সে দিকে সরকার কতটা খেয়াল রাখবে এখন সেটাই দেখার বিষয়।