প্রতিদিন ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য: সরকারি অফিসে কমাতে হবে ৩০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৬):

বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৃষিতে সেচ, সার উৎপাদন, শিল্প উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি) এবং অর্থায়ন কৌশল সম্বলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

 

বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

শিল্পপ্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় জ্বালানির যোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

আগামী তিন মাস দেশে সব প্রকার আলোকসজ্জা করা যাবে না। আলোকসজ্জা বাদ দেওয়াসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নেওয়া কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম নেবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

 

সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।

 

সচিব জানান, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সাকুল্যে ২০ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনগুলোকে ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন।

সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।

সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিকভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ ও ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানোর বিষয়েও সভায় ‍সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।