অবৈধ মজুদের তথ্য দিলে লাখ টাকা পুরস্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (সোমবার, ৩০শে মার্চ ২০২৬):
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচারকারীদের বিষয়ে তথ্য দিলে এক লাখ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়,
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচারকারীদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরষ্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিসি।
তথ্য প্রদানকারীর যাবতীয় পরিচয় গোপন রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক তথ্য প্রদানকারীর পুরস্কারের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন। আর্থিক সম্মানী সকল ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/সংস্থার জন্য উম্মুক্ত থাকবে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই অর্থ দেবে।
এই উদ্যোগের ফলে অবৈধ মজুদ ও পাচারকারীদের সম্পর্কে জনগণ অধিকতর সতর্ক ও সচেতন হবেন। ফলে অবৈধ মজুত ও পাচারজনিত কৃত্রিম সংকট অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ।
ইরান ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। প্রত্যেক ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন। এখনও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে যানবাহনের জন্য তেল নিতে হচ্ছে।
দাম বাড়তে পারে আর তেল শেষ হয়ে যেতে পারে এই দুই বিষয়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই বেশি তেল কিনেছেন। অনেকে অবৈধভাবে মজুদ করেছেন।
যদিও সরকার বারবার বলছে তেলের সংকট নেই, দাম বাড়ানো হবে না। তবু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
এসব প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ফিলিং স্টেশনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সংযুক্তি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসার। এখন এসে ঘোষণা করা হলো পুরস্কার।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হতো গত কয়েকদিন তার প্রায় দ্বিগুণ তেল বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ জনগণের জন্য আমদানি করা জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় না করে গোপনে মজুদ করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করছে। মাঠ প্রশাসন ইতোমধ্যে এ ধরণের একাধিক অসাধু চক্রকে শাস্তির আওতায় এনেছে। এতদসত্ত্বেও এই অসাধু প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় উচ্চ মূল্যে আমদানি করা জ্বালানি তেলের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য পুরস্কার দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।