গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

oplus_2

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (শনিবার, ১৫ই আগস্ট ২০২৬):

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনদুর্ভোগের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে।

শনিবার মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে চেক বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের সহায়তা ও চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আল্লাহর রহমতে আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন। সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছে সরকার। কারিগরি ত্রুটি কমানো হয়েছে, দ্রুতই বিদ্যুতের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

তিনি জানান, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে বিরোধী দল হঠকারী আন্দোলন করছে উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলেছে।

কিছু রাজনৈতিক দল হঠকারিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে যদি আরও ভালো কোনো পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সেটি সংসদ ও জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। পরিকল্পনাটি যদি বাস্তবসম্মত হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়, তাহলে আমরা সেটিই বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন, যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে সেই রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ। দেশে গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি থাকবে, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশের সীমিত এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর (রিগ্যাসিফিকেশন) করার সক্ষমতা।

তারেক রহমান বলেন, একসময় গ্যাস ছিল বাংলাদেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী সরকার নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে উদ্যোগ নেয়নি। ফলে পুরো জ্বালানি খাতকে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা হয়েছে।

তারেক রহমান জানান, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশের মাটিতে নতুন গ্যাসের সন্ধান ও অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে এই কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য হলো দেশের গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের মানুষের হাতেই রাখা।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের প্রয়োজনীয় গ্যাসের একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়। বিদেশ থেকে গ্যাস আনার জন্য ব্যবহৃত জাহাজে তা সংরক্ষণ ও রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ছিল মাত্র দুটি ভাসমান টার্মিনালের। আগের সরকার আরও একটি টার্মিনাল আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সেই উদ্যোগ বাতিল করে দেয়। ফলে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের একটিতে হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটার পর বর্তমান গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কারিগরি সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব এই দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি জানান, নতুন গ্যাস টার্মিনাল নির্মাণ ও দ্রুত দেশে আনার জন্য চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সরকার কাজ করছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের গ্যাসের প্রয়োজন মেটাতে সহযোগিতা চেয়ে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষায়িত এলএনজি জাহাজ তৈরি করতে যথেষ্ট সময় লাগে এবং বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি দেশ এ ধরনের জাহাজ নির্মাণ করতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জ্বালানিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো পুনর্গঠনের কাজ করে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সব সমস্যা মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি শিশুও কারও হাত ধরে হাঁটতে শেখার জন্য প্রায় ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় নেয়। আর আপনাদের নির্বাচিত সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস।

তারেক রহমান বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষকে কার্যকরভাবে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব। তার ভাষায়, এই ২০ কোটি মানুষ মানে ৪০ কোটি কর্মক্ষম হাত, যাদের দক্ষ ও উৎপাদনশীল করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আমি কী পেয়েছি, সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং এই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আমি কী দিতে পেরেছি, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।