তেলের গাড়ি দেখে ঈদের চাঁদ দেখার আনন্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (শনিবার, ১৪ই মার্চ ২০২৬):
তেল এসেছে তেল এসেছে বলে চিৎকার করে উঠলেন উপস্থিত সকলে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অবসান হবে এই আনন্দ সবার মনে। ঝিম থাকা চালক থেকে পাম্পের সকলে চনমন হয়ে উঠলেন।
রাজধানীর সাউদান ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে করতে হঠাৎ এলো তেলের গাড়ি। এক গাড়ি অকটেন। এক গাড়ি পেট্রোল। এতে ঈদের চাঁদ দেখার মতো খুশি তেলপ্রত্যাশীদের মনে।
রাজধানীসহ সারা দেশে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। অকটেন নেই। নেই ডিজেলও। দিনের বেশিভাগ সময় বন্ধ পাম্পগুলো। ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না চাহিদার অর্ধেক তেল। ভোগান্তি ছাড়ছে না গ্রাহকদের।
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কোথাও তেল নেই। কোথাও আছে। যেভানে আছে সেখানে লম্বা লাইন।
হাজীপাড়া স্টেশন বন্ধ। স্টেশনের সামনে হাত মাইক নিয়ে অনবরত একজন বলেই চলেছেন, অকটেন নাই। অকটেন শেষ হয়ে গেছে। ডিজেল আছে। অকটেন নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। মাইকের ঘোষণা শুনে তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন চালকরা।
ডিপো থেকে এখনও চাহিদার অর্ধেকের কম অকটেন দেওয়ার অভিযোগ সরবরাহকারীদের।
তেল বিক্রেতা বললেন, চাহিদার অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৭ হাজার লিটার তেল লাগে। কিন্তু ডিপো থেকে এখন দেওয়া হচ্ছে চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার। যে পরিমান তেল দেওয়া হচ্ছে তাতে পাম্প খুলতে খুলতে শেষ হয়ে যায়। এজন্য বেশির সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সম্পূর্ণ বন্ধ অনেক স্টেশন। তবুও জ্বালানি পাওয়ার আশা নিয়ে কারো কারো অপেক্ষা। ঈদ যাত্রায় বিড়ম্বনার শঙ্কায় তারা।
যে পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেখানে গাড়ির লম্বা সারি। দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে নিতে হচ্ছে তেল। দুই আড়াই ঘণ্টাও লাইনে থাকতে হচ্ছে অনেককে।
জ্বালানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার স্থায়ী অবসান চান গ্রাহকরা। দেশেই উৎপাদন হলেও অকটেনে কেন ভোগান্তি সেই প্রশ্ন অনেকের।