“ফ্যাসিস্ট সরকার বিদ্যুতে সয়লাব করে দিয়েছে কিন্তু সঞ্চালন ও বিতরণে সমন্বয় করে করেনি”
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (শুক্রবার, ১২ই জুন ২০২৬):
বিদ্যুৎখাতকে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসার উপযোগী করে বাজেট দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
পিজিসিবির ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ বলেন, প্রাথমিক জ্বালানি প্রয়োজন এজন্য জ্বালানি খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর গতবছরের তুলনায় কিছুটা কম দেওয়া হয়েছে বিদ্যুতে।
মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন সঞ্চালন বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না করেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সময়ে বিদ্যুতে সয়লাব করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য এই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এর সাথে সমন্বয় করে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন করা হয়নি।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা থাকলেও অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার জন্য বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আগের সরকারের অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন সম্প্রসারণের খেসারত এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, একটি স্থিতিশীল বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ—এই তিন খাতের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। কিন্তু অতীতে বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণ করা হলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এসব খাতের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় বড় কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বিতরণ পর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণভাবে এসব ঘটনাকে লোডশেডিং বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে বিতরণ লাইনের কারিগরি ত্রুটি কাজ করছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অভিযোগ করে বলন , বিগত সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও সে সময় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একটি আদর্শ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উচিত হলেও পল্লী বিদ্যুতের অনেক লাইন ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব অপরিকল্পিত লাইন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি করছে না, বরং পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব উৎপাদন, সঞ্চালন ও গ্রিড ব্যবস্থাপনাতেও পড়ছে।
রূপপুরের জন্য আধুনিক গ্রিড লাইন:
নভেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তার আগেই সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের মধ্যে সমন্বয় আনা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আগস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার কথা বলা হলেও পুরো ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে আরও কিছু সময় লাগবে। সে কারণে নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রূপপুরের বিদ্যুৎ, আমদানি করা ভারত থেকে আনা বিদ্যুৎ, দেশে তেল গ্যাস কয়লা সহ বিভিন্নভাবে উৎপাদন করার বিদ্যুতের সমন্বিতভাবে ব্যবহারের জন্য আধুনিক গ্রিড লাইন গড়ে তোলা হবে।
ইচ্ছে করলেই চুক্তি বাতিল সম্ভব নয়:
গত সরকারের সময়ে করা বিদ্যুতের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা হচ্ছে জানান মন্ত্রী। বলেন, চুক্তিতে কোনো সমস্যা থাকলে আর আইনগত বাঁধা না থাকলে সেসব চুক্তি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে দেশের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব চুক্তি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির আওতায় হওয়ায় নতুন সরকার চাইলেই তা বাতিল করতে পারে না। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে এবং আইনগত সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইনগত ও কারিগরি সব দিক বিবেচনায় নিতে হবে।