কমিশন বাড়ানোসহ ৪ দাবিতে সিএনজি স্টেশন মালিকদের ধর্মঘটের আলটিমেটাম

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই ২০২৬):

সিএনজি বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ৩০শে জুলাই দেশব্যাপী প্রতীকী ধর্মঘট এবং ২৩শে আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, মহাসচিব ফারহান নূরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে সিএনজি বিক্রিতে প্রতি ঘনমিটারে ৮ টাকা কমিশন দেওয়া হচ্ছে। গত প্রায় ১১ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম একাধিকবার বেড়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকের মজুরি, ব্যাংক জমানত কমিশন, ঋণের সুদ, ডলারের বিনিময় হার এবং স্টেশন পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু কমিশন অপরিবর্তিত থাকায় অধিকাংশ স্টেশন লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্য বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০শে জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। এ সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রাখা হবে। দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ২৩শে আগস্ট থেকে দেশব্যাপী সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করতে একাধিকবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানানো হয়, এর আগে মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি ২ টাকা ৯৮ পয়সা কমিশন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।২০১৫ সালে বিইআরসি মাত্র ১ টাকা মার্জিন বাড়ায়, বাকি সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ায় বাড়তি পরিচালন ব্যয় গ্রাহকের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই।