ভারতের কর্ণাটক থেকে মহারাষ্ট্রে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন করবে আদানি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ঢাকা (শনিবার, ২৯শে আগস্ট ২০২৬):

ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন সংস্থা আদানি এনার্জি সলিউশনস লিমিটেড (এইএসএল) কর্ণাটকের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ মহারাষ্ট্রের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দিতে একটি বড় সঞ্চালন প্রকল্পের কাজ পেয়েছে।
এইএসএল হলো আদানি গ্রুপের একটি সহযোগি প্রতিষ্ঠান। তাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যই কেন্দ্রটি ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মাণ করা হয়েছে। একক কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে আদানির এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
এইএসএল জানিয়েছে, প্রায় ছয় হাজার তেষট্টি কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প মহারাষ্ট্রের সাতারা, পুনে ও মুম্বাই মহানগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান পাম্পড স্টোরেজ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে।
সাতারার কাছাকাছি এলাকায় ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পাম্পড স্টোরেজ সম্ভাবনা পূরণে পশ্চিমাঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এইএসএল।
প্রকল্পটি “সাতারা পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেড” নামের একটি বিশেষ সংস্থার অধীনে পরিচালিত হবে এবং আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটির নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে ৫৬২ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং ৯ হাজার মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার রূপান্তর সক্ষমতা। এর ফলে এইএসএলের মোট সঞ্চালন নেটওয়ার্ক দাঁড়াবে ২৯ হাজার ৭৩৯ সার্কিট কিলোমিটার এবং মোট রূপান্তর সক্ষমতা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ারে।
প্রকল্পের আওতায় সাতারায় একটি উচ্চক্ষমতার উপকেন্দ্র স্থাপন, কোলাপুর-সাতারা রুটে দ্বৈত সার্কিটের উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালন লাইন এবং কোলাপুর পুলিং কেন্দ্রের সম্প্রসারণ করা হবে।
এইএসএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান্দর্প প্যাটেল বলেন, পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পগুলো ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে, কারণ এগুলো বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ করে দেয়।
তিনি জানান, সাতারার এই প্রকল্প দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট অজীবাশ্ম জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া ভারতের জন্য এমন সঞ্চালন অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে মুম্বাই মহানগর ও মুন্দ্রা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এইএসএল, পাশাপাশি স্মার্ট মিটারিং ব্যবসায়ও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।