৫ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য 

oplus_2

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (সোমবার, ২৭শে এপ্রিল ২০২৬): 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিংয়ের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হবে। ধাপে ধাপে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

সোমবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরাম’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের বকেয়া, ডলার সংকট এবং জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অতীতের নীতিগত ভুল ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের চাপও এখনো বিদ্যমান।

তেলের আমদানি খরচ ২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে এখনও ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ।

ইকবাল হাসান বলেন, দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎই সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। অব্যবহৃত সরকারি জমি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকা খালি জমি চিহ্নিত করে সেগুলোতে বড় আকারে সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। যমুনা নদীর তীরবর্তী ভাঙনে সৃষ্ট খাস জমিও এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, রেলওয়েসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপুল অব্যবহৃত জমি আছে, যা বিনিয়োগের আওতায় এনে কাজে লাগানো হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে জমি সংকট দীর্ঘদিনের বড় বাধা। এ সমস্যা সমাধানে নতুন গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যার আওতায় ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য সরকারি জমি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ফেনীর সোনাগাজীতে প্রথম পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত জমির তালিকা তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সরকারের অংশীদারিত্ব থাকায় ব্যাংক অর্থায়ন সহজ হবে এবং ৫০ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার বড় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এছাড়া ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্প নেই।

তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বিদ্যমান চুক্তির কাঠামোগত দুর্বলতা ও সাম্প্রতিক সময়ে ৩১টি সৌর প্রকল্পের অনুমোদন বাতিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। যা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।