মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহে ঝুঁকি ও দাম বাড়ার শঙ্কা 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (রোববার, ১লা মার্চ ২০২৬):

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে বাংলাদেশেও সরবরাহ ঘাটতি এবং দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে।

দেশের বেশির ভাগ জ্বালানি— পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল, এলএনজি, এলপিজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জ্বালানি আনার বিকল্প সমুদ্রপথ নেই। তাই শঙ্কা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে এই মুহূর্তে ডিজেল ১৪ দিনের, অকটেন ২৮ দিনের, পেট্রোল ১৫ দিনের, জেট ফুয়েল ৩০ দিনের এবং ফার্নেস অয়েল ৯৩ দিনের চাহিদা

মত মজুদ আছে। এক লাখ মেট্রিক টন তেল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে আরও একটি কার্গো। চাহিদা অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তি ইতিমধ্যেই করা আছে। তাই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না হলে বাংলাদেশের সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বিপিসি’র পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য অনেক দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে বাংলাদেশ। ফলে  সমস্যা হওয়ার শঙ্কা কম। তবুও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরবরাহকারী দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে বিপিসি।

দশ দিন আগে ব্যারেলপ্রতি যে জ্বালানির দাম ছিল ৬১ ডলার, তা এখন প্রায় ৬৭ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।