গতবারের চেয়ে বিদ্যুতে কম বরাদ্দ বেশি জ্বালানিতে: মোট বরাদ্দ ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন ২০২৬):
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। বরাদ্দ বাড়ছে ৩৯৩ কোটি টাকা।
বাজেটে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিদ্যুৎ জ্বালানিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতবারের চেয়ে বিদ্যুতে কম বরাদ্দ বেশি জ্বালানিতে:
এবার বিদ্যুৎখাতে গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১৫ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। এবার বরাদ্দ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। ৫৮৯ কোটি টাকা কম।
তবে জ্বালানি খাতে গতবছরের চেয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানিতে এবার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। যা গতবছর ছিল এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।
বিদ্যুৎকেন্দ্রর কয়লা আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা:
দেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুতের দাম সহনশীল রাখার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা আমদানিতে শুল্ককর রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ চার বছর বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ ৩০শে জুন, ২০৩০ পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।
ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে শুল্ককর প্রত্যাহার:
ইলেকট্রিক গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে জরুরি দেশব্যাপী বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্ক। এজন্য পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের জন্য আমদানি পর্যায়ে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ি আমদানিতে শুল্ককর বাড়ছে:
ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোল চালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যান ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে মধ্যম সারির ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫.৮৮ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অন্যান্য গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করভার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেয়াতি সুবিধা:
নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌর বিদ্যুৎখাতের প্রসারে এই খাত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণসমূহ আমদানিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূণ্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের স্বার্থে এই সুবিধা ৩০শে জুন, ২০৩১ পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে দেশে এই খাত সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম ইত্যাদি পণ্যসমূহের রেয়াতি সুবিধা ৩০শে জুন, ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে:
দেশের বিদ্যুৎ খাতের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের নীতি ও ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, দুর্নীতি, লুটপাট এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই আজ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্রভাড়ার নামে বিদ্যুৎ খাতের বিপুল অর্থ অপচয় করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।