উপচে পড়ছে কয়লা: নানা সংকটে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি
মো. রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর প্রতিনিধি (দিনাজপুর, ১১ই মে ২০২৬):
নানা সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি। দিনাজপুর পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত কয়লা মজুত এবং আর্থিক লোকসানের অজুহাতে খনিটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টরা।
উত্তোলিত অতিরিক্ত কয়লা দীর্ঘদিন মজুমদাগারে পড়ে থাকায় প্রায়ই কয়লার স্তূপে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপের কারণে খনির সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছে এবং বৃষ্টির পানিতে কয়লা ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে আশপাশের সড়কসহ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রর ৩টি ইউনিটের মধ্যে ২টি দীর্ঘদিন বন্ধ। এজন্য কয়লার বড় অংশ ব্যবহার না হয়ে মজুদাগারে জমা থাকছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।

আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও দেশীয় চাহিদার তুলনায় কম দামে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) কয়লা সরবরাহ করায় খনিটি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
খনির শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন খনিটি রক্ষায় ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—খোলাবাজারে কয়লা বিক্রির অনুমতি, পিডিবিকে সরবরাহক করা কয়লার মূল্য বৃদ্ধি এবং নতুন এলাকায় খনি সম্প্রসারণে ভূমি অধিগ্রহণ।
শ্রমিকদের আশঙ্কা, লোকসানের অজুহাতে খনিটি বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার পরিবার জীবিকা হারাবে।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, খনির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। তবে মজুদাগারে জায়গা সংকটের কারণে উত্তোলিত কয়লা সংরক্ষণে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
