বিদ্যুৎ নেই: বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুর, অবরুদ্ধ কর্মকর্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (বুধবার, ১২ই আগস্ট ২০২৬):
লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, নেত্রকোণা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপকেন্দ্রে হামলা করেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। সেখানে আব্দুল লতিফ নামে এক লাইনম্যানকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। এর আগে গত ১ আগস্ট রাতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রাহকেরা আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে মঙ্গলবার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তারাও গ্রাহকদের রোষের মুখে পড়েন।
নেত্রকোণায় দিন-রাত মিলিয়ে কোনো কোনো এলাকায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জেও দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস ও স্থাপনায় হামলার শঙ্কায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে। চিঠিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ স্থাপনায় নিয়মিত পুলিশি টহলের অনুরোধ করা হয়েছে।
নীলফামারীর ডোমারেও থানায় লিখিতভাবে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি ও রাতে টহল বাড়ানো হয়েছে।