কয়লা সরবরাহ সমস্যায় কমেছে আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৬):
ভারতের আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। রেলপথে কয়লা পরিবহনে সংকটের কারণে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে আদানি।
বুধবার কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) দেওয়া এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।
চুক্তি অনুযায়ী গড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা। সাম্প্রতিক সময়ে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান।
আদানি জানিয়েছে, রেলপথে অতিরিক্ত চাপ ও বিভিন্ন ধরনের পরিবহন বিধিনিষেধের কারণে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনের তুলনায় কম কয়লা পৌঁছাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে সমন্বয় করে দিনের অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার সময়ে সরবরাহ কমিয়ে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারতীয় রেলের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শিগগিরই স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে বলে আশা করছে তারা।
আদানি জানিয়েছে, রেলপথে তীব্র যানজট এবং পরিবহন নেটওয়ার্কে একাধিক বিধিনিষেধের কারণে গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা বহনকারী রেকের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কেন্দ্রটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম কয়লা পৌঁছাচ্ছে। ফলে সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে দিনের অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানো হচ্ছে। তবে সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সময়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও সরবরাহ সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আদানি পাওয়ার আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে পিডিবিকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গড্ডা কেন্দ্রে স্বাভাবিক হারে কয়লা সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করতে ভারতীয় রেলের সঙ্গে কাজ চলছে। কয়লা পরিবহন বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে এর প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা যায়।
শুধু আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র নয়, অতিবৃষ্টির কারণে ভারতের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও কম কয়লা মজুতের সমস্যায় পড়েছে।
বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বর্তমানে বন্ধ বা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। ফলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে কয়লা পরিবহনের পরিস্থিতিও শিগগির স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে আদানি পাওয়ার।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।