রামপালে হচ্ছে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (বৃহস্পতিবার, ৭ই অক্টোবর ২০২৬):
বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য ২ হাজার ৪৯৮.০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি বহুমুখীকরণ ও কার্বণ নিরসনে এই কেন্দ্র করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। মোট খরচের মধ্যে বিপিডিবি’র নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ এবং বিদ্যুৎখাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের এই ঋণে বার্ষিক সুদের হার হবে ২ শতাংশ। এতে ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময় মিলবে ১৬ বছর।
রামপালে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে রামপালে ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিপিডিবি। তারই একাংশে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ব্লক-বি এলাকায় জমি উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এ জমিতেই নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে।
সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। ন্যূনতম ৬৪০ ওয়াট পিক ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। মোট ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড ইনভার্টার ও একটি পুলিং সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে। বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল সার্কিট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং উপকেন্দ্রে দুটি ২৩০ কেভি বে নির্মাণ করা হবে।
একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি বর্তমানে চালু রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের সিদ্ধান্ত আগেই বাতিল করা হয়েছে। ওই ইউনিটের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বিপিডিবি এরই মধ্যে মাটি ভরাট করেছে। সেখানে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রামপালের প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্টোরেজ ব্যবস্থা যুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি কাঠামোর ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদনের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে সহায়তা করবে। বর্তমানে দেশে ২৮ হাজার ৮২৭ মেগাওয়াট অন-গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে সৌর থেকে হচ্ছে ৭৯৭ মেগাওয়াট।