বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট: শহর নয় গ্রামে লোডশেডিং নীতিতে সরকার 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (বৃহস্পতিবার,  ২৩শে এপ্রিল ২০২৬):

গ্যাস সংকটে সবোর্চ্চ চাহিদার সময় সন্ধ্যায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাহিদার অর্ধেকের কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা শহরে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গ্রামে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই থাকবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিস্থিতি উন্নতি হবে। তিনি আরও বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন হবে, তখন সংকট কমবে, লোডশেডিং কমবে।

ঘাটতির জন্য কৃষি ও শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে কিছু তথ্য দিয়ে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭শ’৬৭ মেগাওয়াট, উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬শ’৮১ মেগাওয়াট। প্রায় ২ হাজারের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২শ’ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। যদি ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেওয়া হয় তবে  ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেওয়া হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ কোটি ঘনফুট ।

উম্মে রেহেনা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং চলছে। তবে আগামী মে মাসের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুগ্ন সচিব বলেন, এমনিতেই প্রতিবছর গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কিছুটা লোডশেডিং করতে হয়। তবে এবার একটু বেশি হয়েছে কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর যে এলএনজি আমদানির সংকটটা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে এর মাধ্যমে আমদানিও করতে পারছি না এবং জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য জ্বালানি বিভাগ স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিচ্ছে।