আদানি পাওয়ার: চতুর্থ প্রান্তিকে ৬৪% মুনাফা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ঢাকা (বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬):
ভারতের বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেডের চতুর্থ প্রান্তিকে নিট মুনাফা ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।
একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ১০৫ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপানের রেকর্ড।
বুধবার আদানি থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বার্ষিক আয়বৃদ্ধি, উন্নত কার্যক্ষমতা এবং করব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে আদানি পাওয়ারের কর পরবর্তী মুনাফা ছিলো ২৭ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যা ২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে প্রায় ৪৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোট ঘোষিত রাজস্ব ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার থেকে ১৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ইবিআইটিডিএ ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার ডলারে। পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিট মুনাফা ১৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ১৩৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.৮৮ বিলিয়ন ইউনিট থেকে ৯৯.১৫ বিলিয়ন ইউনিটে উন্নীত হয়েছে।
সারা বছর ভারতের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৭০৯ বিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিলো ২৪৩ গিগাওয়াট , যা আগের অর্থবছরের ছিলো ২৫০ গিগাওয়াট। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব এবং আবহাওয়াজনিত চাহিদার অনিশ্চয়তার কারণে বিদ্যুৎ এক্সচেঞ্জে গড় বাজারদর ১৩.৭ শতাংশ কমে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় প্রায় ০.০৪০ ডলারে নেমে এসেছে।
আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস বি খ্যালিয়া বলেন, বিশ্ব যখন জ্বালানি মূল্য নিয়ে বড় ধরণের ধাক্কার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়লাসহ প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে শক্তি জোগাবে। ভারত যখন দ্রুতগতিতে নবায়নযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাপবিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল রাখা এবং সর্বোচ্চ চাহিদা মেটানোর চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করছে।
প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব নিশ্চিতকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে আদানি পাওয়ার। মহারাষ্ট্র স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে নকশা, নির্মাণ, অর্থায়ন, মালিকানা ও পরিচালন মডেলে ২৫ বছরের জন্য ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান মক্সি পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড তামিলনাড়ু বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য ৫৫৮ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে আদানি পাওয়ারের মোট পরিচালন সক্ষমতার ৯৫ শতাংশ দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় এসেছে এবং সামগ্রিক সম্প্রসারণ সক্ষমতা চুক্তি ১৩.৩ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০.৪ গিগাওয়াট এই অর্থবছরেই নিশ্চিত হয়েছে।
নির্মাণ কার্যক্রমে ২০৩২ সালের মধ্যে ২৩.৭ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্প নির্ধারিত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
আদানি পাওয়ার ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও তামিলনাড়ুতে বারোটি বিদ্যুৎকেন্দ্র মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা ১৮ হাজার ১১০ মেগাওয়াট, পাশাপাশি গুজরাটে ৪০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রও রয়েছে।