আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ঢাকা (রোববার, ৭ই জুন ২০২৬):

ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মর্যাদা ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার তাঁর মালিকানাধীন আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম এক লাফে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিবর্তন আসে।

বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক দিনেই গৌতম আদানির সম্পদ প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভাবনীয় উত্থানের পর আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯২০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি এবং জাপানের সফটব্যাংক গোষ্ঠীর প্রধান মাসায়োশি সনকে পেছনে ফেলে ধনীর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করলেন। বর্তমানে আম্বানির সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, জাপানের শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের কারণে মাসায়োশি সনের সম্পদ কমে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যার ফলে তিনি শীর্ষ স্থানটি হারান।

ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে গৌতম আদানির এই আধিপত্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সাথেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি পাওয়ার’ বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত আদানির ১৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

শুক্রবার আদানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে তাদের পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আদানি গ্রিন এনার্জি’। এটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া তাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন, মূল প্রতিষ্ঠান, বন্দর পরিচালনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সব মিলিয়ে আদানির ছয়টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য এখন প্রায় ১৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ আদানির বিরুদ্ধে আনা একটি বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যবসায় সুবাতাস বইতে শুরু করে। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁর সম্পদ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ডলারের একটি ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি পেতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্য গোপন করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই আদানি ও তাঁর সহযোগীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

[07/06, 19:10] Impac Pr Sumi: ২০৩২ সালের মধ্যে ৪২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় আদানি

 

আগামী ছয় বছরে ২৩ হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন করার উদ্যোগ নিয়েছে আদানি পাওয়ার। লক্ষ্য ২০৩২ সালের মধ্যে বর্তমান সক্ষমতা ১৯ হাজার মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। আর এজন্য বিনিয়োগ করবে ২ হাজার ১০৬ কোটি মার্কিন ডলার। পাশাপাশি গ্রিন এনার্জী সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত অবকাঠামো উন্নয়নেও নজর দিয়েছে ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপ।

 

ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে বাংলাদেশে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানি পাওয়ার।শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্দেশ্যেই ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের লোডশেডিং মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখছে।

 

আদানি প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি জানিয়েছেন, মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁর ও গ্রুপের অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ঘুষ প্রদানের অভিযোগের বিষয়টি গ্রুপটির সঙ্গে পৃথকভাবে নিষ্পত্তিতে পৌঁছেছে।

 

“মার্কিন আইনি কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখন সম্পূর্ণ অতীত। এটি আমাদের নতুন আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তীব্র বিতর্ক ও তদন্তের মুখেও গ্রুপের ব্যবসায়িক অগ্রযাত্রা কোনো মুহূর্তে থমকে যায়নি,” যোগ করেন তিনি।

 

চিঠিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের রোডম্যাপও তুলে ধরে গৌতম আদানি উল্লেখ করেন, “প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে বাস্তব অবকাঠামোর ভিত্তির উপর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন গ্রিড, ডেটা সেন্টার ও লজিস্টিকস খাতে বিশাল বিনিয়োগের দাবি রাখে।”

 

জলবায়ু পরির্বতনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্ব যখন সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে তখন পিছিয়ে নেই আদানি পাওয়ার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৫ হাজার ১শ মেগাওয়াট।

 

এদিকে ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে গ্রুপটি ২০৩০ সালের মধ্যে ২ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডেটা সেন্টার প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বিশাখাপত্তনমে বৃহৎ পরিসরের একটি ডেটা সেন্টার স্থাপনে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে আদানি গ্রুপ।

 

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদানি গ্রুপের রাজস্ব ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে পৌঁছেছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারে। বছরজুড়ে মূলধনি বিনিয়োগের পরিমান ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার, যা গ্রুপের ইতিহাসে বার্ষিক বিনিয়োগের অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড। এছাড়া, আদানি গ্রুপের বন্দর বিভাগ এ বছর ৫০০ কোটি টনেরও বেশি পণ্য পরিবহন পরিচালনা করেছে।

#