জ্বালানি তেলের সকল সববিধি নিষেধ প্রত্যাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (রোববার, ১৫ই মার্চ ২০২৬):
সাধারণ ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়ার সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সকল ভোক্তা তার প্রয়োজন মতো জ্বালানি তেল নিতে পারবেন।
রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের সকল সববিধি নিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তিন কারণে এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ঈদ যাত্রা সফল করা, কৃষি সেচ নির্বিঘ্ন করা এবং কয়েকটি তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি যতদিন এই চাপ সহ্য করতে পারবে ততদিন দাম বাড়ানো হবে না।
বোরো মৌসুম পর্যন্ত যাতে কোনো ঘাটতি না হয় সে জন্য সবোর্চ্চ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলোর সাথেও আলোচনা চলছে। রাশিয়ার তেল অন্যদেশের মাধ্যমে আনা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ইরান–ইসরাইল যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি ব্যবস্থা নিয়েছিল। ইতোমধ্যে আমদানি করা কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ই মার্চ থেকে দেশের সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
৬ই মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়। তখন মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক দুই লিটার, ব্যক্তিগত বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সীমা নির্ধারণের পরে জ্বালানি তেল নিয়ে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনে ছিল লম্বা লাইন।
পরে শেয়ারিং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার এবং পাম্পের জন্য রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়।