জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারের কিছু উদ্যোগ

গ্যাসের মিটার। রাজধানীর গুলশানের একটি আবাসিক বাড়ি থেকে তোলা। ছবি: এনার্জি বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা (বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬): 

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল  কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।

বুধবার জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরবরাহ কমার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

জানানো হয়, এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া আমদানিনির্ভরতা এ পরিস্থিতির প্রভাবকে আরও তীব্র করেছে। বিগত সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপের মধ্যে পড়ে।

সরকার আমদানিনির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার আরও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

 

১. চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বানের কার্যক্রম;

২.  মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া;

৩. ভোলার গ্যাস স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের মূল ভূখন্ডে আনার জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা;

৪.  দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম; এবং

৫.  জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামো বহুমুখীকরণ।

মনির হোসেন বলেন, সরকার দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও সর্বসাধারণের নিকট আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ  করেছে জ্বালানি বিভাগ।